করোনা আক্রান্ত ট্রাম্পের ভোটের শোভাযাত্রা

যুক্তরাষ্ট্র

করোনা আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়ালটার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারের বাইরে মোটর শোভাযাত্রা করেছেন।

গত রবিবার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই অসুস্থ প্রেসিডেন্টের এ মোটর শোভাযাত্রার মুখোমুখি হয়ে হাসপাতালের বাইরে জড়ো হওয়া তার সমর্থকরা বিস্মিত হয়ে যান। মোটর শোভাযাত্রা শেষে প্রেসিডেন্ট আবার হাসপাতালে ফিরে যান। সংক্রামক রোগে আক্রান্ত প্রেসিডেন্টের এই শোভাযাত্রা তাৎক্ষণিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তার দেহরক্ষীদের ও গাড়িচালকের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেলার জন্য অনেকেই তার সমালোচনা করেছেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ওই হাসপাতালের সামনে একটি কালো রঙের এসইউভির পেছনের আসনে বসা মুখে মাস্ক পরা ৭৪ বছর বয়সী ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নাড়েন।

এ সময় তার গাড়িবহর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় আর ‘ট্রাম্প ২০২০’ পতাকা হাতে জড়ো হওয়া সমর্থকরা ‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ বলে স্লোগান দেন। শুক্রবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর এটি জনসম্মুখে ট্রাম্পের প্রথম উপস্থিতি ছিল।

কিছু সময়ের জন্য হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগে টুইটারে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ট্রাম্প বলেন, তাকে শুভকামনা জানাতে যারা হাসপাতালের বাইরে জড়ো হয়েছেন তাদের ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চান তিনি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে কভিড-১৯ আক্রান্ত প্রেসিডেন্টের চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত দেন।

অক্সিজেন নেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের ফুসফুসের অবস্থা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন, এমনটি জানানো সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে দাবী করেছেন চিকিৎসকরা। সোমবারের মধ্যেই ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউজে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তারা।

কিন্তু ট্রাম্পের চিকিৎসক ডা. শন পি কনলি জানিয়েছেন, তিনি আগে যা বলেছিলেন প্রেসিডেন্টের অবস্থা তার চেয়েও খারাপ হয়ে পড়েছিল। শুক্রবার সকালে ট্রাম্পের প্রবল জ¦র ছিল আর পরে তার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নেমে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

পরীক্ষায় ট্রাম্পের ফুসফুসের অবস্থা সম্পর্কে কী জানা গেছে, এমন প্রশ্নে কনলি বলেন, যা পাওয়া গেছে তা প্রত্যাশিতই ছিল, তবে সেগুলো বড় কোনো উদ্বেগের বিষয় নয়।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আমেশ আদালজা বলেছেন, কনলির উত্তর থেকে ধারণা করছি এক্স-রে প্রতিবেদনে নিউমোনিয়ার কিছু লক্ষণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রত্যাশিতভাবে যা পাওয়া গেছে তা হলো এক্স-রে প্রতিবেদনে নিউমোনিয়া থাকার প্রমাণ এসেছে। যদি এটা স্বাভাবিক হয় তাহলে তাদের শুধু বলা উচিত, এটা স্বাভাবিক। তবে ট্রাম্পের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত নন, এমন অন্য চিকিৎসকরা বলছেন, তার রোগ গুরুতর এমন প্রমাণ আছে।

ট্রাম্পকে ডেক্সামেথাসোন দেওয়া হয়েছে। এই স্টেরয়েড গুরুতর কভিড রোগীর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি তাকে এন্টিভাইরাল ওষুধ রেমডিসিভির ও রিজেনেরন ফার্মাসিউটিক্যালসের পরীক্ষামূলক এন্টিবডি চিকিৎসাও দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হাসপাতালে তিনি সৈন্য ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার এ বক্তব্যে প্রশ্ন উঠেছে তিনি এখন রোগটি সরাসরি অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন কি-না।

সমালোচকরা বলেছেন, রবিবার বিকেলে ট্রাম্পের মোটর শোভাযাত্রার সময় তার বুলেটপ্রুফ এসইউভিতে তার সঙ্গে থাকা সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যদের এখন ১৪ দিন স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে থাকা দরকার।

ওয়ালটার রিড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. জেমস ফিলিপস বলেছেন, এই দায়িত্বহীনতা স্তম্ভিত হওয়ার মতো।

ট্রাম্পের মোটর শোভাযাত্রার আগে সাংবাদিকদের তা না জানানোয় আপত্তি জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং চিকিৎসকদের পাশাপাশি ডেমোক্র্যাটরাও ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের এক সদস্য টুইটে বলেছেন ‘আমাদের নেতৃত্ব দরকার, কোনো ফটোশুটের সুযোগের সদ্ব্যবহার নয়।’

ওদিকে হোয়াইট হাউজ ট্রাম্পের এই মোটর শোভাযাত্রার সাফাই দিয়ে বলেছে, প্রেসিডেন্ট এবং তার সঙ্গে থাকা অন্যদের জন্য এই শোভাযাত্রায় যথাযথ পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পারসোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপমেন্টও (পিপিই) ছিল।

ট্রাম্প যখন করোনাভাইরাসকে তোয়াক্কা না করে এমন মোটর শোভাযাত্রা করছেন, তখন এর ঠিক বিপরীত চিত্রই দেখা যাচ্ছে তার স্ত্রী মেলানিয়ার ক্ষেত্রে।

এনবিসি নিউজ জানিয়েছে, মেলানিয়া করোনাভাইরাসের মৃদু উপসর্গ নিয়ে হোয়াইট হাউজেই আছেন। তিনি এমনকি হাসপাতালের স্টাফরা সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন ভেবে স্বামীকে দেখতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে আক্রান্ত হয়ে এ রোগ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছেন এবং সবাইকে তা জানাবেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেন, এটি খুবই কৌতূহলোদ্দীপক পথপরিক্রমা। আমি কভিড-১৯ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনেছি। অন্যের কাছে শুনে বা অন্যকে দেখে নয় আমি নিজে এ রোগ মোকাবিলা করে এর সম্পর্কে জেনেছি। এটি অনেকটা বই পড়ে নয় বরং স্কুলে গিয়ে হাতেকলমে শেখার মতো। আমার এ রোগ হয়েছে এবং আমি একে বুঝতে পেরেছি।

ট্রাম্পের ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেনের আবার করোনাভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছে এবং ফল নেগেটিভ এসেছে বলে রবিবার তার প্রচারণা কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এর আগে শুক্রবার আরও দুইবার বাইডেনের পরীক্ষা করা হয়েছিল, দুবারই ফল নেগেটিভ এসেছিল। গত মঙ্গলবার রিপাবলিকান প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একটি মুখোমুখি নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন।❐

Share on Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *