রাজধানীতে অস্ত্র-ইয়াবাসহ গ্রেফতার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা রিমান্ডে

বাংলাদেশ রাজনীতি

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে অস্ত্র ও ইয়াবাসহ গ্রেফতার আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনিরের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করেছে র‌্যাব। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাব-২ এর একজন উপ-সহকারী পরিচালক বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মোহম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। একই ঘটনায় তার কাছ থেকে ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় র‌্যাবের একই কর্মকর্তা বাদী হয়ে মাদক আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

মনিরুজ্জামান মনির আদাবর থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি।

র‌্যাব জানায়, ঢাকা উদ্যানের প্রধান সড়কে অবস্থিত বাগান বাড়িটিতে মনিরের সাবিহা রিয়েল এস্টেটের অফিস। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় র‌্যাব বাগান বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে অস্ত্র ও মাদকসহ গ্রেফতার করে।

তার বিরুদ্ধে জমি ও বাড়ি দখল, চাঁদাবাজি, ভাংচুর এবং ভয়-ভীতি দেখানোর অভিযোগে ৭৫টি মামলা ও জিডি রয়েছে। মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক ও বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিং, তুরাগ হাউজিং, চাঁদ উদ্যান, একতা হাউজিং, শ্যামলী হাউজিং, রাজধানী হাউজিং, নবীনগর হাউজিং, গ্রিন সিটিসহ ১০টি হাউজিং প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্লট দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

র‌্যাব জানায়, মনির বাংলাদেশ বিমানের জুনিয়র পার্সার কাজী আশরাফ আল কাদের ও তার স্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার ঢাকা উদ্যানের ডি ব্লকের সাড়ে ৬ কাঠার ৫৪ নম্বর প্লটের দোতলা বাড়িটি দখল করেন।

আরেক ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোস্তফা নাজিম ঢাকা উদ্যানের সি-ব্লকে ১ নম্বর সড়কের একটি প্লটে চলতি বছরে বাড়ি নির্মাণ শুরু করলে মনির তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করেন। মনিরের সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা ও লুটপাটের শিকার হন মোহাম্মদপুরের বছিলা রোডের আজহার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী বরকত উল্লাহ। মইন উদ্দিন ও জহির উদ্দিনের মালিকানাধীন শ্যামলী হাউজিংয়ের দ্বিতীয় প্রকল্পের এইচ ব্লকের ১ নম্বর রোডের ১৩ নম্বর বাড়িটি মনিরের ক্যাডার বাহিনী দখল করে নেয়।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল লতিফ বলেন, মনিরের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুই মামলার মধ্যে মাদক আইনে দায়ের করা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার বিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মাদক মামলায় রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে অস্ত্র আইনে দায়ের করা মামলায় রিমান্ডের আবেদন করা হবে।❐

Share on Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *