Our Concern
Ruposhi Bangla
Hindusthan Surkhiyan
Radio Bangla FM
Third Eye Production
Anuswar Publication
Ruposhi Bangla Entertainment Limited
Shah Foundation
Street Children Foundation
June 13, 2024
Homeবাংলাদেশপদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

পদ্মা-মেঘনায় মাছ ধরায় দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় মার্চ-এপ্রিল দুই মাস ইলিশের পোনা জাটকাসহ সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ। এ সময়ে জেলার ৪৪ হাজারের অধিক জেলে বেকার হয়ে পড়বে। তবে জাটকা ধরা থেকে বিরত থাকা নিবন্ধিত জেলেদেরকে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাস খাদ্য সহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল দেবে সরকার। জাতীয় সম্পদ ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স সচেতনতামূলক প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ইলিশের উত্পাদন বৃদ্ধি ও জাটকা রক্ষায় চাঁদপুর, শরীয়তপুর, লক্ষীপুর, বরিশাল ভোলার পদ্মা-মেঘনাসহ দেশের ৬টি নদী অঞ্চলে মার্চ-এপ্রিল অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এ সময় সব ধরনের জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। বুধবার ১ মার্চ থেকে অভয়াশ্রম কার্যক্রম শুরু হবে।

চাঁদপুর জেলার সদর, হাইমচরে, মতলব ও দক্ষিণ উপজেলার মেঘনার ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমের অন্তর্ভুক্ত। অভয়াশ্রমের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে এই ৪ উপজেলার অর্ধ লক্ষাধিক জেলে বেকার হয়ে পড়বে। সরকার জেলার নিবন্ধিত ৪৪ হাজার জেলের মধ্যে ৪০ হাজার জেলের জন্য প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে ৪ মাসের জন্য চাল বরাদ্দ প্রদান করেছে। চলতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি ছোট প্রজাতির মাছের পোনা রক্ষায় কম্বিং অপারেশনের সমন্বয় করে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ৪ মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়। জানুয়ারি মাসের চাল বিতরণ করা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের চাল বিতরন চলছে। ৪ হাজার জেলের চাল বরাদ্দ না আসায় তাদের পরিবার পরিজনের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন চাঁদপুর সদরের বিষ্ণুপুর, কল্যাণপুর, তরপুরচন্ডী আনন্দ বাজার, শহরের বড় স্টেশন টিলাবাড়ী, পুরাণ বাজার রনাগোয়াল ও দোকানঘর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জেলেরা তাদের নৌকা ডাঙ্গায় উঠাচ্ছেন। আবার অনেকে তাদের নৌকা এবং নৌকার ইঞ্জিন মেরামত করছেন। তরপুরচণ্ডী আনন্দ বাজার এলাকার জেলে নুর উদ্দিন জানান, সরকার নদীতে অভিযান দিলে মাছ ধরতে নদীতে নামেন না। কিন্তু জেলার বাইরে থেকে অন্য জেলেরা এসে জাটকা ধরে নিয়ে যান। এই কাজটি নিয়ন্ত্রণ করার দাবি জানান তিনি।

চাঁদপুর কান্ট্রি ফিশিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক কলেন, ‘আমরা আড়ত্দার ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে জাল নৌকা মেরামত, অংশীদার জেলেদের অগ্রিম টাকা দিয়ে থাকি। এছাড়া অনেক অংশীদার জেলে সাংসারিক প্রয়োজনে লোন নিয়ে থাকেন। অভয়াশ্রমের সময় কিস্তির টাকা পরিশোধে তারা চরম বেকায়দায় পড়েন। এছাড়া বরাদ্দ না আসায় জেলার ৪ হাজার নিবন্ধিত জেলে চাল পাননি। তিনি চাল সহায়তাবঞ্চিত নিবন্ধিত ৪ হাজার জেলের জন্য দ্রুত চাল সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অভয়াশ্রমের সময় কিস্তি আদায় বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা টাস্কফোর্সের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি জানান।

চাঁদপুরের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান বলেন, মেঘনার ৭০ কিলোমিটার নদী অঞ্চলে অভয়াশ্রমে কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। আমাদের জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা, নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড, নৌ-বাহিনী ও মৎস্য বিভাগ দুই মাস নিয়মিত নদীতে অভিযান পরিচালনা করবে। আশা করি জেলেরা জাটকা নিজেদের সম্পদ বিবেচনা করে আহরণ থেকে বিরত থাকবে।

এদিকে লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উত্পাদন বাড়াতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাস মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ নিষেধাজ্ঞার সময় প্রতি জেলে ৮০ কেজি করে ভিজিএফের চাল পাবেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করার জন্য নদীতে মৎস্য বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান পরিচালনা করা হবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামলে জেল-জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। অভিযান সফল হলে অধিক পরিমাণ ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।

Share With:
Rate This Article
No Comments

Leave A Comment